How will my prayer be accepted? ইসমে আজম কি?

 
সকল বাঙ্গালী মুসলিমদের প্রতি রইলো পবিত্র ঈদুল ফিতরের অগ্রিম শুভেচ্ছা
 
আজ আমরা জানবো প্রার্থনা কবুলের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
আমরা অধিকাংশ বাঙ্গালী জন্মগত ভাবেই ধর্মভিরু, ধর্ম বিষয়টি আমাদের নিকট অনেক
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, আর তারই রেশ ধরে সমাজের আলেম সমাজ আমাদের ছোট্ট থেকেই
স্রষ্টাকে ভয় করার, স্রষ্টাকে খুশি রাখার বিষয়টি নিয়ে নানা বিধ প্রবচন দিয়ে থাকে। কিন্তু
মজার বিষয় অধিকাংশ আলেম নিজেরাই স্রষ্টা বিষয় হয়তো জ্ঞ্যাত নন।
একটি বিষয় ভাবুনতো আপনার বাবা মা যারা আপনাকে জন্ম দিয়েছেন, তাদের কে কি আপনি শুধু ভয়’ই পাবেন? সকল সময় তাদের আপনি খুশি করে চলার চিন্তাই করবেন? আর তেনাকে খুশি করার জন্যই সারা জীবন বির্সজন দিবেন?
যে মহান স্রষ্টা মহামহিম দয়াময় রাব্বুল  আলামিন আমাদের সৃষ্টি করেছেন তিনি নিশ্চয় আমাদের শুধু তার এবাদৎ বন্দেগি করে সারা জীবন পার করতে দুনিয়াতে প্রেরন করেন নি? তাই যদি হতো তবে তো আমাদের মানুষ না বানিয়ে ফেরেস্তা বানাতে পারতো, যাদের পাপ করার কিছু নাই, চাওয়া পাওয়ার কিছু নাই, দুক্ষ/কষ্ট/সুখ বলে কিছু নেই। আমাদের তো সবকিছুই রয়েছে তাহলে কেনো আমরা শুধু স্রষ্টার গুনগান করেই জীবন পার করবো? আর যারা গুনগান করেই জীবন চালায় তাদের ডাকে কি আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সাড়া দেয়?? তারা স্রষ্টার নিকট যা চায় তাই কি পায়? তাদের দুঃক্ষ, কষ্ট কি স্রষ্টা সব দুর করে দেয়??? যদি দেয় তবে তো মিটেই গেলো আমরা সবাই তার গুনগান শুরু করি, আর যদি না দেয় তবে কেনো দেয় না।
এই প্রশ্নের উত্তরে অনেক আলেম সজোরে বলে উঠবে স্রষ্টা আমাদের পরিক্ষার মধ্যে রেখেছে দুনিয়াতে কিছু দিবে না যা দিবে পরকালে দিবে !!!
হাউ ফানি
তবে তাকে দুনিয়াতে পাঠালো কেনো??? মানে
আপনার বাবা/মা অর্থাৎ কোন বাবা মাই কি তার কোন এক সন্তান কে বেশি ভালোবাসলে কঠিন শিতের রাত্রে গলাপানিতে ডুবে থাকতে বলবে, বা সেটা দেখে বাবা মা খুশি হবে???
 

বাস্তবতা সত্যি ভিন্ন- এটা সত্যি স্রষ্টা আমাদের পৃথিবীতে প্রেরন করেছে পরিক্ষা করার জন্য, তবে আমরা যে পরিক্ষার কথা বলে থাকি বা ভেবে থাকি সেটা পরিক্ষা নয়, সেটা সাস্তি। স্রষ্টা পরিক্ষা করে বিভিন্ন ব্যক্তিকে বিভিন্ন মাধ্যমে। হতে পারে সেটা কোন অসুখ, কষ্ট, লাঞ্চনা, দুঃক্ষ। তবে কখনই সেটা সকল সময়ের জন্য নয়, যে অসুখ, কষ্ট, লাঞ্চনা, দুঃক্ষ অনন্ত তা পরিক্ষা নয়, সাস্তি, স্রষ্টার প্রকোপ। আমরা এ বিষয় ভিন্ন দৃষ্টিকোন থেকে আপনাদের সাথে অন্য কোন পোষ্টে বিস্তর আলোচনা করবো। এখানে স্রষ্টা কি ভাবে আমাদের প্রার্থনা কবুল করবে সে বিষয় আলোচনা করি।

 

প্রথমেই আসি কি ধরনের প্রার্থনা স্রষ্টা কি ভাবে কবুল করে- যে বিষয়টি আপনার ব্যক্তিগত আপনার পরিবার পরিজনের জন্য, আপনার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সে সকল পার্থনা অবশ্যই আপনাকে ব্যক্তিগত ভাবেই গোপনে স্রষ্টার নিকট জানাতে হবে, আপনি সকলের সামনে, সকলকে নিয়ে আপনার ব্যক্তিগত সমস্যার জন্য স্রষ্টার নিকট পার্থনা করে ফল পাবেন বলে আশা করা যায় না। তাকে ডাকতে হবে তার সাথে একাত্ব হতে হবে আর সে কারনে অবশ্যই তার সাথে আপনার সম্মোধন জানতে হবে (ইসলামী শরিয়ায় যাকে বলা হয় ইসমে আজম)। হ্যা আপনার পরিবারে যেমন ২০ জন সদস্য থাকতে পারে কিন্তু সকলের সাথে সকলের সম্মোধন একনয়, সর্ম্পক্য এক নয়, যেমন আপনি আপনার বাবাকে ভাই বলে ডাকলে তিনি সারা দিবেন না, বরং আপনার কপালে এর জন্য দুর্ভোগ রয়েছে, বোন কে মা বা বউ বলতে পারবেনা, তেমনি কোন একজন মহাপূরুষের বলে যাওয়া ইসমে আজম আপনার জন্য প্রযোজ্য নয়, মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের ১০০১ টি নাম, প্রচলিত ৯৯টি নাম এর মধ্যোহতে যে কোনটি ধরে তাকে ডাকতে হতে পারে বা এমনও হতে পারে সম্পূর্ণ ভিন্ন নামে আপনাকে সম্মোধন করতে হবে, কিন্তু সেটা কি? সেটি কি ভাবে আপনি জানবেন? কোথায় পাবেন? হ্যা সে নিয়মটিও স্রষ্টা জানিয়ে দিয়েছে। আপনি আপনার সম্মোধন অনুসারে আপনার প্রয়োজনে স্রষ্টাকে সে ভাবে ডাকলে অবশ্যই ১০০% স্রষ্টা আপনার ডাকে সাড়া দিবে আপনার আকাঙ্খা পূর্ণ করবে। পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, মিশর সহ বিভিন্ন দেশে অসংখ্য ইসলামী স্কলার রয়েছে যারা আপনাকে আপনার স্বীয় স্রষ্টার ইসমে আজম বের করে দিতে পারে বা দিবে। আপনাকে অবশ্যই নিয়মানুসারে স্রষ্টাকে সে ভাবেই ডাকতে হবে, তার নিকট চাইতে হবে। স্রষ্টা বহুবার বলেছে ওহে বান্দা তোমরা আমার নিকট চাও আমরা দিবো। কিন্তু যদি বাবাকে বলি নানা আমার কিছু টাকা লাগবে দিন, তবে কি আমি টাকাটা পাবো, না কি অন্য কিছু পাবো? আমাদের অধিকাংশ আলেম সমাজ এ বিষয় অজ্ঞ যে কারনেই তারা কিছু উদ্ভট ব্যাখা দিয়ে থাকে যে এটা এখন পাবেন না, পরকালে পাবেন, স্রষ্টা পরিক্ষা নিচ্ছে। ইত্যাদি।
আপনি সমাজের বা একটি এলাকার বা একটি অঞ্চলের জন্য একা কখনো দোওয়া করতে যাবেন না, কারন সেখানে আপনার একার দোওয়া কার্যকর কখনই হবে না। এ বিষয় বিস্তারিত আলোচনা পরবর্তীতে করা হবে।
স্রষ্টাকে রাজি খুশি করানোর জন্য নিয়মিত স্রষ্টাকে সঠিক ভাবে স্বরন করাই যথেষ্ট, স্রষ্টা কখন’ই কাহারো উপর জুলুম চাপিয়ে দেন না, আর আপনি যদি একবার স্রষ্টাকে ডাকার কোড পেয়ে যান, একবার যদি আপনার ইসমে আজম পেয়ে যান, স্রষ্টার সাথে আপনার সর্ম্পকের নাম পেয়ে যান তবে অবশ্যই আপনার আর কোন কিছুর’ই প্রয়োজন থাকবে না, মহান রাব্বুল আলামিন আপনার সমস্ত আশা আকাঙ্খা পূর্ণ করবেন’ই। তবে এরমানে এই নয় যে আপনি সারাজীবন সুখের সাগরে ভাসবেন! আপনি আপনার সকল কর্মফল তো ইহোজগতেই পাবেন, আপনি আপনার চলমান জীবনে আপনার জানা/অজানায় যখন যে ভুল ত্রুটি করবেন তার সাস্তি আপনাকে অবশ্যই ভোগ করতে হবে। যেমনটা স্বাভাবিক ভাবেই হয়ে থাকে। আপনি কষ্টে থেকে স্রষ্টাকে খুশি করবেন সেটা আপনার ভুল ভাবনা। হ্যা তবে মনে রাখবেন স্রষ্টাকে ডাকার জন্য অবশ্যই আপনার নিজেস্ব কোড বা সম্মোধন বা সর্ম্পক্য রয়েছে কিন্তু স্রষ্টাকে নাখোশ করার জন্য নির্দিষ্ট কিছু বিষয় গন্ডিভুত নেই। আপনি যদি স্রষ্টার সৃষ্টিকুলের কোন কিছুকেই আঘাত করেন, কষ্টদেন, কষ্টের কারন হন, তবে স্রষ্টা অবশ্যই আপনার প্রতি নাখোশ হবেন, আর এর ফল আপনাকে আখিরাতে নয়, ইহোজগতেই ভোগ করতে হবে। আর সেটা যে কোন ভাবেই হোক না কেনো।

 

সরাংশঃ আপনি যদি আপনার সাথে স্রষ্টার সর্ম্পক/ইসমে আজম/সম্মোধন জানতে ইচ্ছুক হয়ে থাকেন তবে অবশ্যই আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। আমাদের সাথে রয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন স্থানের খ্যাতমান ইসলামী স্কলার যেনারা আপনাকে আপনার সাথে স্রষ্টার সর্ম্পকের নাম বের করে দিবে।
ভাবুনতো= পবিত্র মাহে রমজানের ৩০টি রোজা রেখে আপনি স্রষ্টার জন্য কি করলেন, স্রষ্টা আপনার জন্য কি করলো??? অবশ্যই ভালোবাসা একতরফা হয় না, ভালোবাসা সেটাই যেটা উভয় পক্ষে থাকে সমান সমান। আপনি যদি মনে করেন স্রষ্টা এই যে আলো বাতাস জীবন ইত্যাদি দিয়েছে এটাই তো অনেক তবে আপনার মাথায় সত্যি অনেক জ্ঞান !!! আরে ভাই এই সমস্ত কিছু তো একটা কুকুর বা শুকরের জন্যেও সমান বা একজন নাস্তিকের জন্যেও সমান বরাদ্দ, তাহলে আপনার স্পেশালিটি কি থাকলো???? জানতে চায়নি কখনো মন? যদি স্রষ্টাকে ভালোবাসতে চান, তবে এমন ভাবে ভালোবাসুন যাতে স্রষ্টাও আপনাকে সমান ভাবে ভালোবাসে। একতরফা প্রেমের কোন মূল্য নেই। বহু পূর্বের একটি বাঙ্গালী শ্লোক রয়েছে “ডাকার মত ডাকলে খোদা কেমনে শোনে না” সেটা এই বাঙ্গালী কেনো আজও বুঝলো না??? আসুন আমরা সকলেই স্রষ্টাকে ভালোবাসি, এবং সেই সাথে স্রষ্টার নিকট হতে আমাদের ভালোবাসার নিজ নিজ প্রাপ্য উপঢৌকন বুঝে নেই।।

Share:

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on pinterest
Pinterest
Share on linkedin
LinkedIn

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts

অষ্টমাতৃকা ও ৬৪ যোগিনী

অষ্টমাতৃকা ও ৬৪ যোগিনী সুপ্রভাত এইমহামারীর হাত থেকে উদ্ধার হ ওয়ার জন্য আজকের বিশেষ প্রতিবেদন অষ্টমাতৃকা ও ৬৪ যোগিনী (পূনঃপ্রচার) আপনারা অষ্ট মাতৃকা এবং ৬৪টি

রাশিচক্র বা জন্ম রাশি

জ্যোতিষ ও বিজ্ঞান ………… বাস্তু ও জ্যোতিষ ……………………….. ছয়টি বেদাঙ্গের একটি জ্যোতিষ। প্রাচীনকালে জ্যোতিষ অনুসারে শুভ তিথি- যজ্ঞ করা হত। জ্যোতি অর্থ আলো। বিভিন্ন গ্রহ-নক্ষত্র

বশিকরণ/বাধ্যকরণ/হিপনোটাইজ

  পবিত্র মাহে রমজানুল মোবারক উপলক্ষে মন্ত্রগুরু এ্যসোসিয়েশনের শুভাকাঙ্খীদের বিশেষ অফার~ আজ হতে পবিত্র ঈদুল ফিতরের রাত্রি পর্যন্ত আপনারা পাচ্ছেন সকল বশিকরণ কাজে বিশেষ ছাড়,

বিশ্বাস বনাম বিজ্ঞান

আপনি যগতের যে প্রান্তেই থাকুন না কেনো, এই অবস্থার মুখোমুখি আপনাকে হতেই হবে, গোটা কতক জগৎ সর্ম্পকে বিশেষ জ্ঞানী (অজ্ঞ), ব্যক্তির মতে শুধু আমাদের এশিয়ার

হারানো মনের মানুষকে ফিরে পেতে

আমরা সাধারন মানুষ কখনই আমাদের কাছে যা আছে তার কদর বুঝি না, আমাদের আশে পাশে যারা থাকে তাদের মূল্যায়ন করি না,যারা আমাদের ভালোবাসে তাদের ভালোবাসার

গুরুজী শুনীল বর্মণ
কোলকাতা, আসাম, ত্রিপুরা, তিব্বত, মাদ্রাজ, মায়ানমার, আফ্রিকা, ব্রাজিল, আমাজন সহ বিশ্বের অর্ধশত দেশ ভ্রমন ও জ্ঞান সংগ্রহ ও বিতরণের পর বর্তমানে ইংল্যান্ড হতে মন্ত্রগুরু এ্যসোসিয়েশন পরিচালনা করে মানুষকে সঠিক তান্ত্রিক সেবার দ্বারা উপকৃত করার লক্ষ নিয়ে বাকি জীবন কাটিয়ে দেওয়ার প্রত্যাশায়।

চাঁদের অবস্থান

TodayThursday15AprilWeek 15 | TuckerCWaxing Crescent

আমাদের অবস্থান