রাশিচক্র বা জন্ম রাশি

জ্যোতিষ ও বিজ্ঞান …………
রাশি লগ্ন
বাস্তু ও জ্যোতিষ ………………………..
ছয়টি বেদাঙ্গের একটি জ্যোতিষ। প্রাচীনকালে জ্যোতিষ অনুসারে শুভ তিথি- যজ্ঞ করা হত। জ্যোতি অর্থ আলো। বিভিন্ন গ্রহ-নক্ষত্র দীপ্তিমান অর্থাৎ এদের জ্যোতি বা আলো রয়েছে। মানব-জীবনে বিভিন্ন গ্রহ-নক্ষত্রের প্রভাব সংক্রান্ত জ্ঞান বা বিদ্যাই জ্যোতিষ বিজ্ঞান। ভৃগু , পরাশর , জৈমিনি আদি প্রাচীন ঋষিগণকে জ্যোতিষ বিজ্ঞানের প্রবর্তক বলা চলে। তাঁরা জ্যোতিষবিদ্যা বিভিন্ন অঙ্গ বা শাখা-প্রশাখা সৃষ্টি করে গেছেন। তাঁরা উপলব্ধি করেছেন যে , পৃথিবীর নিকটবর্তী নয়টি গ্রহ, বারটি রাশি ও সাতাশটি নক্ষত্র মানুষের জীবনের উপর প্রভাব বিস্তার করে এবং এই প্রভাবই জ্যোতিষ বিজ্ঞানের মুখ্য আলোচ্য বিষয়। জাতক ভূমিষ্ঠ হওয়ার সময় এসব গ্রহ, রাশি ও নক্ষত্রের অবস্থান অনুসারে জাতকের ভাগ্য নিয়ন্ত্রিত হয়।
জ্যোতিষ বিজ্ঞান বলে গ্রহগণ নিছক জড় বস্ত্ত নয়। জ্যোতিষ শান্ত্রে গ্রহগণকে দেবতা জ্ঞান করা করেছে। গ্রহগণ সর্বদা ঘুর্ণায়মান। প্রত্যেক মানুষ কোন না কোন গ্রহ দ্বারা প্রভাবিত। গ্রহগণ ঘুরতে ঘুরতে যখন শুভ অবস্থানে থাকে তখন জাতকের শুভ হয় এবং গ্রহগণ যখন অশুভ অবস্থানে থাকে তখন জাতকের অশুভ হয়।
নবগ্রহের নাম- ১) রবি, ২) সোম, ৩) মঙ্গল, ৪) বুধ, ৫) বৃহস্পতি, ৬) শুক্র, ৭) শনি, ৮) রাহু ও ৯) কেতু।
এই নবগ্রহের মধ্যে সোম, বুধ, বৃহস্পতি ও শুক্র এই চারটি গ্রহ অধিকাংশ সময় শুভফল প্রদান করে বলে এদেরকে শুভ গ্রহ এবং রবি , মঙ্গল , শনি , রাহু ও কেতু এই পাঁচটি গ্রহ অধিকাংশ সময় অশুভফল প্রদান করে বলে এদেরকে অশুভ গ্রহ বা পাপ গ্রহ বলে।
নবগ্রহের রবি , মঙ্গল ও বৃহস্পতি পুরুষ , চন্দ্র ও শুক্র স্ত্রী এবং বুধ ও শনি ক্লীব বা নপুংসক।
রবি একটি রাশিতে ত্রিশ দিন , চন্দ্র সোয়া দুই দিন , মঙ্গল পয়তাল্লিশ দিন , বুধ আঠার দিন , বৃহস্পতি এক বছর , শুক্র আটাশ দিন , শনি আড়াই বছর এবং রাহু-কেতু দেড় বছর অবস্থান করে।
জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে :—–
রবি আত্মা , পিতা , রক্ত বর্ণ , কটু (ঝাল) রস , পিত্ত ধাতু , স্বভাব , যশ-খ্যাতি , প্রতিষ্ঠা প্রভৃতির কারক।
চন্দ্র মন , মাতা , জল , শুভ্রবর্ণ , লবণ রস , শ্লেষ্মা ধাতু , চঞ্চলতা , চিন্তাশক্তি , সাহিত্য প্রভৃতির কারক।
মঙ্গল শক্তি , ভ্রাতৃ , ভূমি , সম্পত্তি , সাহস ,
পরাক্রম , অগ্নি , লাল বর্ণ , তিক্ত রস , পিত্ত ধাতু প্রভৃতির কারক।
বুধ বুদ্ধি , মাতুল , বাণিজ্য , বাক্-শক্তি , মিশ্র রস , সম ধাতু , হাস্য , শিল্প , সাহিত্য , সবুজ বর্ণ প্রভৃতির কারক।
বৃহস্পতি ধর্ম , পুত্র , ধন , জ্ঞান , মিষ্টি রস , কফ ধাতু , হলুদ বর্ণ প্রভৃতির কারক।
শুক্র প্রেম , কাম , স্ত্রী , সুখ , অম্ল রস , কফ ধাতু , গীত , কাব্য , শুভ্র বর্ণ প্রভৃতির কারক।
শনি দুঃখ , মৃত্যু , বিপদ , কষায় রস , বায়ু ধাতু , অস্ত্র , আধ্যাত্মিকতা , গুপ্তবিদ্যা প্রভৃতির কারক নীল বর্ণ প্রভৃতির কারক।
রাহু শত্রু , নিদ্রা , চৌর্য , বিষক্রিয়া , পিতামহ , দ্যুত-ক্রিড়া , বায়ু ধাতু , কাল বর্ণ প্রভৃতির কারক।
কেতু মাতামহ , সর্প , দংশন , ক্ষুধা , ধুম্র বর্ণ , ব্রণ ও চর্ম রোগ প্রভৃতির কারক।
জ্যোতিষ বিজ্ঞান বলে গ্রহদের পরস্পরের মধ্যে শত্রুতা-মিত্রতা রয়েছে।
রবির মিত্র- চন্দ্র , মঙ্গল ও বৃহস্পতি , শত্রু- শুক্র ও শনি এবং সম- বুধ।
চন্দ্রের মিত্র- রবি ও বুধ , শত্রু- নেই এবং সম- মঙ্গল , বৃহস্পতি , শুক্র ও শনি।
মঙ্গলের মিত্র- রবি , চন্দ্র ও বৃহস্পতি , শত্রু- বুধ এবং সম- শুক্র ও শনি।
বুধের মিত্র- রবি ও শুক্র , শত্রু- চন্দ্র এবং সম- শনি , মঙ্গল ও বৃহস্পতি।
বৃহস্পতির মিত্র- রবি , চন্দ্র ও মঙ্গল , শত্রু- বুধ ও শুক্র এবং সম- শনি।
শুক্রের মিত্র- বুধ ও শনি , শত্রু- রবি ও চন্দ্র এবং সম- মঙ্গল ও বৃহস্পতি।
শনির মিত্র- বুধ ও শুক্র , শত্রু- রবি , চন্দ্র ও মঙ্গল এবং সম- বৃহস্পতি।
রাহুর মিত্র- শুক্র ও শনি , শত্রু- রবি , চন্দ্র ও মঙ্গল এবং সম- বুধ ও বৃহস্পতি।
কেতুর মিত্র- রবি ও চন্দ্র , শত্রু- শুক্র ও শনি এবং সম- বুধ ও বৃহস্পতি।
জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে বারটি নক্ষত্রপুঞ্জ বা রাশি মহাকাশে বৃত্তাকারে অবস্থান করছে। একটি বৃত্তের মোট ৩৬০ অংশ ধরা হয়। তাহলে বারটি রাশির জন্য ৩৬০ অংশ থাকলে প্রত্যেকটি রাশির জন্য ৩৬০/১২ = ৩০ অংশ থাকে। বারটি রাশির জন্য ৩০ অংশ করে ১২টি স্থান রয়েছে। নয়টি গ্রহ তাদের নিজ নিজ গতিতে নির্দিষ্ট সময়ে একটি রাশির ৩০ অংশ স্থান অতিক্রম করে পরের রাশির স্থানে গমন করে এবং এভাবে পর্যায়ক্রমে বারটি রাশির স্থান ভ্রমণ করে।
অংশেরও ক্ষুদ্র ভাগ আছে যথা- ৬০ বিকলায় ১ কলা , ৬০ কলায় ১ অংশ এবং ৩০ অংশে এক রাশি। গ্রহগণ ১২টি রাশির ১২টি স্থানেই শুভফল দেয় না।
যেমন চন্দ্র ১ম , ৩য় , ৬ষ্ঠ , ৭ম , ১০ম ও ১১শ স্থানে থাকলে শুদ্ধ হয় এবং শুভ ফল প্রদান করে।
যেমন কর্কট রাশির ক্ষেত্রে কর্কট (১ম) , কন্যা (৩য়) , ধনু (৬ষ্ঠ) , মকর (৭ম) , মেষ (১০ম) ও বৃষে (১১শ) চন্দ্র অবস্থানের সময় চন্দ্র-শুদ্ধি হয়।
তবে শুক্লপক্ষে চন্দ্র ২য় , ৫ম ও ৯ম স্থানেও শুভ ফল প্রদান করে।
রবি জন্মরাশি হতে ৩য় , ৬ষ্ঠ , ১০ম ও ১১শ স্থানে থাকলে শুদ্ধ হয়।
চন্দ্রশুদ্ধি ও রবিশুদ্ধি থাকলে অন্যান্য গ্রহের অশুভ ফল হ্রাস পায়।
শনি, মঙ্গল, রাহু ও কেতু প্রত্যেকে জন্ম রাশি হতে ৩য় , ৬ষ্ঠ , ১০ম ও ১১শ স্থানে থাকলে শুদ্ধ হয়। বৃহস্পতি জন্ম রাশি হতে ২য় , ৫ম , ৭ম , ৯ম ও ১১শ স্থানে থাকলে শুদ্ধ হয়।
বুধ জন্ম রাশি হতে ২য় , ৪র্থ , ৬ষ্ঠ , ৮ম , ১০ম , ১১শ ও ১২শ স্থানে থাকলে শুদ্ধ হয়।
একাদশ স্থান একটি বিশেষ স্থান যেখানে সব গ্রহই শুভ ফল প্রদান করে।
মেষ রাশির প্রথমে , বৃষ রাশির পঞ্চমে , মিথুন রাশির নবমে , কর্কট রাশির দ্বিতীয়ে , সিংহ রাশির ষষ্ঠে , কন্যা রাশির দশমে , তুলা রাশির তৃতীয়ে , বৃশ্চিক রাশির সপ্তমে , ধনু রাশির চতুর্থে , মকর রাশির অষ্টমে , কুম্ভ রাশির একাদশে এবং মীন রাশির দ্বাদশে চন্দ্র অবস্থান করলে ঘাত-চন্দ্র হয়। ঘাত-চন্দ্রে যাত্রা ও বিবাহ অশুভ।
এক দিবারাত্রের মধ্যে বারটি রাশি পর্যায়ক্রমে পূর্বদিকে উদিত হয়। রাশিসমূহের এই উদয়কালকে লগ্ন বলে।
লগ্নকে অন্যভাবেও সংজ্ঞায়িত করা যায়।
পৃথিবী নিজ কক্ষপথে ভ্রমণের সময় এক দিনে
এর চতুর্দিকে অবস্থিত ১২টি রাশির প্রত্যেকটিকে নির্দিষ্ট সময় ব্যবধানে অতিক্রম করে ঐ নির্দিষ্ট সময়কে লগ্ন বলে।
পৃথিবী যে সময় ব্যাপী যে রাশি অতিক্রম করে ঐ রাশির নাম অনুসারে ঐ লগ্নের নাম হয়।
যেমন সূর্যোদয়ের পর দুই ঘণ্টা পর্যন্ত যদি পৃথিবী মেষ রাশিকে অতিক্রম করতে থাকে তাহলে ঐ সময়কে বলা হবে মেষ লগ্ন এবং সূর্যোদয়ের দুই ঘণ্টা পর বৃষ লগ্ন শুরু হবে।
এভাবে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় পর পর বারটি লগ্ন আবর্তিত হয়।
জ্যোতিষ শাস্ত্রে উল্লিখিত বারটি লগ্নের নাম-
১) মেষ , ২) বৃষ , ৩) মিথুন , ৪) কর্কট , ৫) সিংহ , ৬) কন্যা , ৭) তুলা , ৮) ধনু , ৯) বৃশ্চিক , ১০) মকর , ১১) কুম্ভ ও ১২) মীন।
জন্মের সময় পৃথিবীর নিকটস্থ রাশিকে অর্থাৎ পৃথিবী যে রাশিকে অতিক্রম করছিল সে রাশিকে জন্ম-লগ্ন বলে।
এখন সংক্ষিপ্তাকারে দ্বাদশ প্রকার জন্ম-লগ্নের
ফল :—–
জ্যোতিষ শাস্ত্রে বর্ণিত আছে —–
* মেষ লগ্নের জাতক যশস্বী , মানী , পরবৎসল , জ্ঞানী , পরাক্রমশালী , সাহসী , ক্রোধী , কুটচিন্তাশীল , ভোগী ও স্ত্রীপুত্র সুখে সুখী হয়ে থাকে।
* বৃষ লগ্নের জাতক গুরুভক্ত , প্রিয়ভাষী , গুণবান , কৃতী , তেজস্বী , সর্বজনপ্রিয় , সুরতক্রিয়া নিপুন , লোভী ও পরস্ত্রীতে অনুরক্ত হয়ে থাকে।
* মিথুন লগ্নের জাতক মান্যগণ্য , যশস্বী , শিক্ষিত , আত্মীয়বৎসল , ত্যাগী , ভোগী , ধনী , কামী , দীর্ঘসূত্রী , সাহিত্যরসিক , সঙ্গীতজ্ঞ , সুবক্তা হয়ে থাকে।
* কর্কট লগ্নের জাতক সর্বজনপ্রিয় , স্বজনপ্রিয় , ধার্মিক , ধনী , ভোগী , পণ্ডিত , ভাষাবিদ , জনসেবক এবং মিষ্টান্ন ও পানীয় দ্রব্যপ্রিয় হয়ে থাকে।
* সিংহ লগ্নের জাতক শত্রুজয়ী , বুদ্ধিমান , উৎসাহী , বলশালী , পরদ্রব্যভোগী , ক্রোধী , স্বল্পপুত্রবিশিষ্ট , জনপ্রিয় ও স্বার্থহীন হয়ে থাকে। * কন্যা লগ্নের জাতক ধার্মিক , জ্ঞানী , শাস্ত্রজ্ঞ , বিচক্ষণ , অহংকারী , পর্যটক , কামকলাপ্রিয় , বক্তা , সৌভাগ্যশালী ও স্বল্পাহারী হয়ে থাকে।
* তুলা লগ্নের জাতক ধীর-স্থির , বহুজনের হিতকারী , বিদ্বান , সৎকর্মে অনুরক্ত , ধনী , মানী , শিল্পকলায় পরিদর্শী ও অল্পভোগী হয়ে থাকে। * বৃশ্চিক লগ্নের জাতক শৌর্যশালী , বুদ্ধিমান , সৌভাগ্যযুক্ত , ক্রোধী , কামুক , সাহসী , ক্ষুধাতুর , বিবাদকারী ও দুষ্টবুদ্ধিযুক্ত হয়ে থাকে।
* ধনু লগ্নের জাতক নীতিপরায়ণ , ধার্মিক , শাণিতবাক , বিদ্বান , ধনী , সুখী , জ্ঞানী , বহুলোকের হিতকারী , চাপা-স্বভাব , অহংকারী ও উচ্চাভিলাসী হয়ে থাকে।
* মকর লগ্নের জাতক যশস্বী , ধনী , বহুসন্তানযুক্ত , কপট , কর্মঠ , কষ্টসহিষ্ণু , লোভী , হীনকর্মযুক্ত ও স্বকার্যে তৎপর হয়ে থাকে।
* কুম্ভ লগ্নের জাতক বলশালী , সুখী , বন্ধুযুক্ত , বেদজ্ঞ , সূক্ষ্ম অনুভূতিশীল , তপস্বী , ক্রোধী ,
চঞ্চল , পরস্ত্রীতে আসক্ত ও নিদ্রালু হয়ে থাকে। * মীন লগ্নের জাতক অতিশয় জ্ঞানী , দেবতা ও গুরু-পূজক , মানী , ধনী , স্পর্শকাতর , নিঃসঙ্গ জীবনীশক্তিযুক্ত , স্বল্প রোমবিশিষ্ট ও বহুকাল পরীক্ষাকারী হয়ে থাকে।
জ্যোতিষ বিজ্ঞান মতে চন্দ্র পৃথিবীর চতুর্দিকে একবার প্রদক্ষিণ করতে ত্রিশ দিন লাগে। চন্দ্র ও পৃথিবী ঘুর্ণনের ফলে চন্দ্র ক্রমশ দৃশ্যমান হতে হতে পনের দিনে সম্পূর্ণ দৃশ্যমান হয় যাকে পূর্ণিমা বলে এবং পরবর্তী পনের দিন পর সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয় যাকে অমাবস্যা বলে। যে একক সময়ে চন্দ্রের এরকম হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে তাকে প্রতিপদ , দ্বিতীয়াদি তিথি বলে।
অমাবস্যার পরের দিন অর্থাৎ প্রতিপদ থেকে পূর্ণিমা পর্যন্ত পনের দিন শুক্ল পক্ষ এবং পূর্ণিমার পরের দিন অর্থাৎ প্রতিপদ থেকে অমাবশ্যা পর্যন্ত পনের দিন কৃষ্ণ পক্ষ নামে পরিচিত।
শুক্ল পক্ষের তিথির নাম —–
১) প্রতিপদ, ২) দ্বিতীয়া, ৩) তৃতীয়া, ৪) চতুর্থী,
৫) পঞ্চমী, ৬) ষষ্ঠী, ৭) সপ্তমী, ৮) অষ্টমী, ৯) নবমী, ১০) দশমী, ১১) একাদশী, ১২) দ্বাদশী, ১৩) ত্রয়োদশী, ১৪) চতুর্দশী ও ১৫) পূর্ণিমা।
কৃষ্ণ পক্ষের তিথির নাম —–
১৬) প্রতিপদ, ১৭) দ্বিতীয়া, ১৮) তৃতীয়া,
১৯) চতুর্থী, ২০) পঞ্চমী, ২১) ষষ্ঠী, ২২) সপ্তমী,
২৩) অষ্টমী, ২৪) নবমী, ২৫) দশমী, ২৬) একাদশী, ২৭) দ্বাদশী, ২৮) ত্রয়োদশী, ২৯) চতুর্দশী ও
৩০) অমাবস্যা।
তিথিসমূহ পাঁচ ভাগে বিভক্ত যথা —–
নন্দা , ভদ্রা , জয়া , রিক্তা ও পূর্ণা।
প্রতিপদ , ষষ্ঠী ও একাদশীকে নন্দা ;
দ্বিতীয়া , সপ্তমী ও দ্বাদশীকে ভদ্রা ;
তৃতীয়া , অষ্টমী ও ত্রয়োদশীকে জয়া ;
চতুর্থী , নবমী ও চতুর্দশীকে রিক্তা এবং
পঞ্চমী , দশমী , অমাবস্যা ও পূর্ণিমাকে পূর্ণা বলে।
মহাকাশে অগণিত নক্ষত্র রয়েছে। তার মধ্যে পৃথিবীর উপর সাতাশটি নক্ষত্রের প্রভাব বিদ্যমান। জ্যোতিষ শাস্ত্রে উল্লিখিত সাতাশটি নক্ষত্রের নাম যথা —–
১) অশ্বিনী, ২) ভরণী, ৩) কৃত্তিকা, ৪) রোহিণী,
৫) মৃগশিরা, ৬) আর্দ্রা, ৭) পুনর্বসু, ৮) পুষ্যা,
৯) অশ্লেষা, ১০) মঘা, ১১) পূর্ব-ফাল্গুনী,
১২) উত্তর-ফাল্গুনী, ১৩) হস্তা, ১৪) চিত্রা, ১৫) স্বাতী, ১৬) বিশাখা, ১৭) অনুরাধা, ১৮) জ্যেষ্ঠা, ১৯) মূলা, ২০) পূর্বাষাঢ়া, ২১) উত্তরাষাঢ়া, ২২) শ্রবণা,
২৩) ধনিষ্ঠা, ২৪) শতভিষা, ২৫) পূর্ব-ভাদ্রপদ,
২৬) উত্তর-ভাদ্রপদ ও ২৭) রেবতী।
হিন্দু-পুরাণ মতে এই সাতাশটি নক্ষত্র কোন দীপ্তিমান জড় বস্তু নয়।
প্রকৃতক্ষে এই সাতাশটি নক্ষত্র মূলত দক্ষের সাতাশ কন্যা। চন্দ্র এই সাতাশ কন্যাকে বিবাহ করেছেন। যা হোক , চন্দ্র পর্যায়ক্রমে এক একটি নক্ষত্র মোটামুটিভাবে একদিন অবস্থান করে ।
চন্দ্র ব্যতীত অন্যান্য গ্রহগণও সাতাশটি নক্ষত্রকে পর্যায়ক্রমে নির্দিষ্ট সময় ব্যবধানে অতিক্রম করেন। নক্ষ ত্রসমূহকে বিভিন্নভাবে বিভক্ত করা হয়েছে। যেমন —–
* উগ্রগণ —– পূর্ব-ফাল্গুনী, পূর্বাষাঢ়া, পূর্ব-ভাদ্রপদ, মঘা ও ভরণী নক্ষত্র।
* ধ্রুবগণ —– উত্তর-ফাল্গুনী, উত্তরাষাঢ়া, উত্তর-ভাদ্রপদ ও রোহিণী নক্ষত্র।
* চরগণ —– স্বাতী, পুনর্বসু, শ্রবণা, ধনিষ্ঠা ও শতভিষা নক্ষত্র।
* ক্ষিপ্রগণ —– পুষ্যা, অশ্বিনী ও হস্তা নক্ষত্র।
* মৃদুগণ —– চিত্রা, অনুরাধা, মৃগশিরা ও রেবতী নক্ষত্র।
* তীক্ষ্ণগণ —– আর্দ্রা, অশ্লেষা, জ্যেষ্ঠা ও মূলা নক্ষত্র।
* মিশ্রগণ —– কৃত্তিকা ও বিশাখা।
মানুষের গুহা জীবন হতে আধুনিক কম্পিউটার যুগ পর্যন্ত বিজ্ঞানের নব নব আবিস্কারের সাথে সাথে মানুষের চিন্তা-চেতনার ক্ষেত্রেও প্রসারিত হয়েছে।অনেক প্রতিকূলতার মাঝেও জীবনের আগমন ও প্রবাহ যেমন থেমে নেই , ঠিক তেমনি সভ্যতার বর্তমান পর্যায়ে জ্ঞানের আপরাপর শাখার মত জ্যোতিষ বিজ্ঞান চর্চা , অনুশীলন এবং গবেষণাও থেমে নেই। সমগ্র বিশ্ব জগতে শ্রেষ্ট চিন্তাশীল বিবেকবান ও প্রজ্ঞাবান জীব হিসেবে মানুষের অবস্থান শীর্ষে। তাই এই অসীম মহা বিশ্বে মানুষের অবস্থান, তার স্বাধীন বিচরণশীল মনোবৃত্তি ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি ইত্যাদির প্রেক্ষিতে সর্বকালে সর্বযুগে একদল নিবেদিত প্রাণ মানুষ নিজস্ব চিন্তা – চেতনা প্রসারিত করেছেন তাঁরাই হলেন জ্যোতিষী ।
অতি সুপ্রাচীন কাল হতে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের অধিকাংশ প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি , পন্ডিত , গণিতজ্ঞ , দার্শনিক ও বিজ্ঞানী প্রাথমিক পর্যায়ে মানুষ , দেশ জাতি বা সম্প্রদায়ের উপর অদৃষ্টের প্রভাব আবিস্কার করতে গিয়ে আকাশের গ্রহ-নক্ষত্র গুলোকে নির্বাক বিষ্ফরিত দৃষ্টি ও অনুসন্ধিৎসু মন দিয়ে অবলোকন করতে শুরু করেন। এরই ফলে এক পর্যায়ে তত্ত্ব ও তথ্যের অনন্যতার কারনে রাশিচক্রের বিভিন্ন স্থানে সৌর মন্ডরের গ্রহ-নক্ষত্রাদির অবস্থানের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব
যে রয়েছে এ ব্যাপারে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের পন্ডিত জ্ঞানী ও শিক্ষিত সম্প্রায়ের মধ্যে কোন দ্বিমতের অবকাশ নেই। এ কথা আজ পরিস্কার যে , গ্রহ গুলোর প্রভাব শুধু স্থান কালের উপরই বিরাজমান নয় ; এর প্রভাব ব্যক্তি মানবের উপরও শুধু ক্রিয়াশীল নয় , মানব শরীরের গ্রন্থী গুলোর উপরও এর সুস্পষ্ট প্রভাব বিরাজমান। এটাও সত্যি যে মানুষ জন্ম সময়ে এক একটা নক্ষত্রের অধীন হয়ে জন্মায়।
শুধু তাই নয়। জ্যোতির্বিজ্ঞান মতে হিসাব করে যেমন গ্রহদের অবস্থান , দূরত্ব-গতিবিধি , চন্দ্রগ্রহণ , সূর্যগ্রহণ প্রভৃতির সঠিক হিসাব নির্ণয় করা যায় , তেমনি জ্যোতিষবিজ্ঞান মতে জীবন প্রবাহের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত জীবনের ঘটনা প্রবাহের ইঙ্গীত , আমাদের জীবনের কোথায় সমস্যা , কোন সময়ে কিসের দ্বারা উন্নতি বা কর্মপথ কি , পরিবেশ , পারিপার্শ্বিক অবস্থা , রাষ্ট্রীয় অবস্থা , ব্যবসা , চাকুরী , রোগ-ভোগ , স্বাস্থ্য , আর্থিক উন্নতি বা অর্থক্ষতি ইত্যাদি বিষয় নির্ণয় করাও সম্ভব।
আজ আর কারো আজানা নয় যে , চন্দ্রের কারণে সমুদ্রে ও নদীতে জোয়ার-ভাঁটা হয়।
এখানে উল্লেখ করা যায় যে , জ্যোতিষশাস্ত্র মতে পৃথিবীর জলের উপর চন্দ্রের প্রভাব ক্রিয়াশীল , হাজার বছর আগে থেকে জানা থাকেলেও একথার সত্যতা প্রমাণিত হয় ১৬৮৭ খৃষ্টাব্দে বিজ্ঞানী নিউটনের মাধ্যমে।
বহু বিজ্ঞানী চাঁদের প্রভাব সম্পর্কে জ্যোতিষ শাস্ত্রের বক্তব্য সমর্থন করেন।
এর মধ্যে কয়েকজন খ্যাতনামা বিজ্ঞানী গবেষণা মাধ্যমে সিদ্ধান্তে আসেন , পূর্ণচন্দ্র শুধুমাত্র মানুষের আবেগ বা চঞ্চলতাই বৃদ্ধি করে না , মানুয়ের অপরাধ প্রবণতাকেও জাগিয়ে দেয়। তাঁদের আরও বক্তব্য যে , এ সময়ে চাঁদের আলো এবং আকর্ষণ মানুষের শারীরিক ও মানসিক শক্তির অবনতি , বিভিন্ন প্রকার রোগ , হত্যা এবং আত্বহত্যা করার মানসিকতার সহায়ক হয়ে উঠে। তাঁরা এও বলেন সাহিত্য এবং প্রাচীন জনশ্রুতিতে চাঁদের প্রভাবে মানুষের সামাজিক মতিভ্রম বা উম্মত্ততা-কুসংস্কার বা উদ্ভট কল্পনা নয় , সত্যই চাঁদ মানুষকে প্রভাবিত করে। শারীর বৃত্তীয় পরীক্ষার দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে যে , পূর্ণিমা ও অমাবস্যায় মানুষের দেহের তড়িৎ বিভব বৃদ্ধি পায়।
মানব সভ্যতার বিকাশ মানুষের জন্ম , পরিবেশ ও বাসস্থানের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। জ্যোতিষ মানুষের জন্ম ও তার জীবনযাত্রার পরিকল্পনার বিস্তারিত জ্ঞানের সঙ্গে পরিচয় ঘটায়। অনুরূপভাবে বাস্তুশাস্ত্র মানুষের বাসস্থান সম্পর্কিত পরিকল্পনাকে বাস্তবায়িত করে জীবনকে সমৃদ্ধিশালী করে।
জ্যোতিষশাস্ত্রের রয়েছে তিনটি মূল ধরা।
গণিত , ফলিত এবং সংহিতা। গণিত অর্থাৎ অঙ্ক , ফলিত অর্থাৎ যা ফলে আছে বা ঘটছে এবং তৃতীয় ভাগটি হল সংহিতা অর্থাৎ সংকলন।
বাস্তুশাস্ত্র এই সংহিতারই একটি অংশ।
এ দিকে পুরাণ শাস্ত্রমতে বাস্তু আদতে জ্যোতিষেরই অঙ্গ।
বলা হয়ে থাকে বাস্তু জ্যোতিষের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। জ্যোতিষের কর্ম কাল বা সময়কে কেন্দ্র করে। যে কারণে জ্যোতিষশাস্ত্রের পুরুষসূক্তে যে মানুষের কল্পনা করা হয়েছে তার অভিধান হল কালপূরুষ । জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে ১২টি রাশি হল কালপুরুষের ১২টি অঙ্গ।
জ্যোতিষ যেমন সময় বা কাল নিয়ে কাজ করে তেমনই বাস্তু শাস্ত্র কাজ করে স্থান , আকার স্থাপত্য নিয়ে। মানবজীবনে দুটির প্রভাবই খুব গুরুত্বপূর্ণ।
এ সম্বন্ধে “ বরাহমিহির ” তাঁর রচিত গ্রন্থ “ যোগযাত্রা ”-য় দুটি খুব সুন্দর ও সহজ উদাহরণ দিয়েছেন কাল স্থান নিয়ে। যেমন——-
কাক রাতের বেলায় পেঁচার দ্বারা আক্রান্ত ও নিহত হয়। কিন্তু এর ঠিক উলটো দৃশ্য দেখা যায় দিনেরবেলায়। দিনের বেলায় পেঁচা স্বয়ংই কাকের দ্বারা আক্রান্ত ও নিহত হয়ে থাকে।
সময় যে কত বলবান তা আমরা এই উদারহরণটির সাহায্যে বুঝতে পারি।
অনুরূপ স্থান সম্বন্ধেও একটি সহজ উদাহরণ তিনি তাঁর বইতে দিয়েছেন। যেমন——
শুকনো জায়গায় বা ডাঙায় কুমির সিংহের দ্বারা নিহত হয়। কিন্তু এর ঠিক বিপরীত কান্ড হয় কুমির যখন সিংহকে জলেতে পায়। তখন কুমির সিংহকে আক্রমণ করে এবং হত্যা করে। স্থান বা জায়গায় গুরুত্ব যে কতটা মানবজীবনকে প্রভাবিত করে তা ওপরের উদাহরণ থেকে আন্দাজ করা যায়।
পাঞ্চভৌতিক তত্ত্বেই বাস্তুশাস্ত্রের ভিত্তি নির্ভর করে আছে।
এই পঞ্চভুতই জ্যোতিষের ভিন্ন অঙ্গ। আকাশে অবস্থিত বিভিন্ন তারামণ্ডল বারোটি রাশিতে বিভক্ত। আর এই রাশিগুলিই পঞ্চভূতের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।
মেষ, সিংহ, ধনু রাশির তত্ত্ব হল অগ্নি।
বৃষ, কন্যা ও মকর রাশির তত্ত্ব পৃথিবী।
মিথুন, তুলা ও কুম্ভ হল বায়ুতত্ত্ব।
কর্কট, বৃশ্চিক ও মীন জল তত্ত্বের রাশি।
এই সকল রাশিই আকাশের বিভিন্ন তারামণ্ডলের সঙ্গে যুক্ত জ্যোতিষ ও বাস্তুশাস্ত্র উভয়ের মধ্যে দিকের বিশেষ গুরুত্ব আছে।
জ্যোতিষ শাস্ত্রের মহান গ্রন্থ “ জাতক পারিজাত ”-এ আটটি দিকের উল্লেখ আছে। অমর কোষে বিভিন্ন দিক্‌ সম্পর্কে বলা হয়েছে যে —–
গ্রহ দিক্‌ গ্রহ দিক্‌
রবি পূর্ব শনি পশ্চিম
শুক্র আগ্নেয় চন্দ্র বায়ব্য
মঙ্গল দক্ষিণ বুধ উত্তর
রাহু নৈর্ঋত বৃহস্পতি ঈশান
ধর্মশাস্ত্রে দশটি দিকের এবং দশ দিক্‌পালের উল্লেখ আছে।
বাস্তুশাস্ত্রেও অনুরূপ উল্লেখ আছে।
জ্যোতিষশাস্ত্রে যে আটটি দিকে নয়টি গ্রহের কথা বলা হয়েছে , বাস্তুশাস্ত্র তাকে মেনে নিয়েছে ।
কোষ্ঠী তৈরি করতে সর্বাধিক গুরুত্বপুর্ণ বিষয় হলো ‘’ স্পষ্ট লগ্ন ‘’।
জন্মের সময় জন্মস্থানের আকাশ পরিমণ্ডলের অবস্থানই হল কোষ্ঠী বা জন্মকুণ্ডলী। স্পষ্ট লগ্নের ভিত্তি পূর্ব দিককেই গণ্য করা হয়। জন্মের সময়ই ওই স্থানে যে রাশি পূর্ব দিকের ক্ষিতিজে অবস্থিত , ওই রাশির অংশ কলা-বিকলা গণনা করে যে রাশিমান নির্ধারণ করা হয় সেটিই ‘’ স্পষ্ট লগ্ন ” । একবার পূর্ব দিক্‌ জেনে নেওয়ার পর সকল দিককে কোষ্ঠীতে স্থাপন করা হয় এবং কোষ্ঠী তৈরি করা হয়। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে বিভিন্ন রাশিও বিভিন্ন দিকের নির্দেশক ।
*** ভুল ভ্রান্তি থাকলে নিজ গুণে ঠিক করে নিলে খুশি হবো ।

Share:

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on pinterest
Pinterest
Share on linkedin
LinkedIn

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts

অষ্টমাতৃকা ও ৬৪ যোগিনী

অষ্টমাতৃকা ও ৬৪ যোগিনী সুপ্রভাত এইমহামারীর হাত থেকে উদ্ধার হ ওয়ার জন্য আজকের বিশেষ প্রতিবেদন অষ্টমাতৃকা ও ৬৪ যোগিনী (পূনঃপ্রচার) আপনারা অষ্ট মাতৃকা এবং ৬৪টি

রাশিচক্র বা জন্ম রাশি

জ্যোতিষ ও বিজ্ঞান ………… বাস্তু ও জ্যোতিষ ……………………….. ছয়টি বেদাঙ্গের একটি জ্যোতিষ। প্রাচীনকালে জ্যোতিষ অনুসারে শুভ তিথি- যজ্ঞ করা হত। জ্যোতি অর্থ আলো। বিভিন্ন গ্রহ-নক্ষত্র

বশিকরণ/বাধ্যকরণ/হিপনোটাইজ

  পবিত্র মাহে রমজানুল মোবারক উপলক্ষে মন্ত্রগুরু এ্যসোসিয়েশনের শুভাকাঙ্খীদের বিশেষ অফার~ আজ হতে পবিত্র ঈদুল ফিতরের রাত্রি পর্যন্ত আপনারা পাচ্ছেন সকল বশিকরণ কাজে বিশেষ ছাড়,

বিশ্বাস বনাম বিজ্ঞান

আপনি যগতের যে প্রান্তেই থাকুন না কেনো, এই অবস্থার মুখোমুখি আপনাকে হতেই হবে, গোটা কতক জগৎ সর্ম্পকে বিশেষ জ্ঞানী (অজ্ঞ), ব্যক্তির মতে শুধু আমাদের এশিয়ার

হারানো মনের মানুষকে ফিরে পেতে

আমরা সাধারন মানুষ কখনই আমাদের কাছে যা আছে তার কদর বুঝি না, আমাদের আশে পাশে যারা থাকে তাদের মূল্যায়ন করি না,যারা আমাদের ভালোবাসে তাদের ভালোবাসার

গুরুজী শুনীল বর্মণ
কোলকাতা, আসাম, ত্রিপুরা, তিব্বত, মাদ্রাজ, মায়ানমার, আফ্রিকা, ব্রাজিল, আমাজন সহ বিশ্বের অর্ধশত দেশ ভ্রমন ও জ্ঞান সংগ্রহ ও বিতরণের পর বর্তমানে ইংল্যান্ড হতে মন্ত্রগুরু এ্যসোসিয়েশন পরিচালনা করে মানুষকে সঠিক তান্ত্রিক সেবার দ্বারা উপকৃত করার লক্ষ নিয়ে বাকি জীবন কাটিয়ে দেওয়ার প্রত্যাশায়।

চাঁদের অবস্থান

TodaySunday25JulyWeek 29 | JackOWaning Gibbous

আমাদের অবস্থান